২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ

প্রতিবেদক, এবিসি নিউজ বিডি, ঢাকাঃ

বর্তমান সরকার একটি নিদিষ্ট লক্ষমাএা নিয়ে এগুচ্ছেন, ২০২১সালে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তর এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণীত হওয়া বলে জানিয়েছেন এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি।

১২ এপ্রিল (বুধবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর আইইবি মিলায়তনে, বঙ্গবন্ধু প্রকৌশলী পরিষদের আয়োজনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৭ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নায়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি।

তিনি ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশ্যে বলেন, আমি সামান্য জেলা বোর্ডের ইঞ্জিনিয়ার থেকে আজ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে আছি। তাই নিজেদের ছোট খাট বিষয়ে হতাশ হওয়ার কারন নেই।
তিনি পদ্মা সেতুর কথা উলেখ্য করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন আমাদের নিজেদের টকায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করব। আজ এই সেতুর ৪০% কাজ সম্পন্ন।
তাই নিজেদের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে হবে। কারন জাতীয় উন্নায়নের ৭৫% অর্থই প্রকৌশলীদের মাধ্যমে খরচ হয়।

সভাপতির বক্তৃতায় প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান মন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, আমাদের কিছু কিছু সমস্যা রয়েছে। এদের মধ্যে উল্লেখ্য যোগ্য হচ্ছে নন টেকনিক্যাল লোকদের টেকনিক্যাল পদগুলোতে জায়গা করে দেওয়া। এ সমস্যার অবসানও চেয়েছেন বঙ্গবন্ধু প্রকৌশল পরিষদের সভাপতি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর সভাপতি কবির আহমদ ভূইয়া বলেন, বর্তমানে ভারতের চেয়েও আমাদের সূচক উপরে । স্বাধীনতা অর্জনের সুফল বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, সম্প্রতি তিনি ইঞ্জিনিয়ারদের একটি সেমিনারে যোগ দিতে ইসলামাবাদে গিয়েছিল। সেখানে প্রতি ২ঘন্টা পর পর লোড শেডিং এর কবলে পড়তে হয়েছে। আর আমাদের দেশে এ সমস্যার কথা প্রায় ভুলতে বসেছি। এসবই স্বাধীনতার সুফল। মোদির ভাষায় বংলাদেশের উন্নায়ন ভারতের চেয়েও বেশি।

উপস্থিত আইইবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বুয়েটের সাবেক ভিসি প্রফেসর ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর কথা মনে করে বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঢাকার রমনায় অবস্থিত রেসকোর্স ময়দানের ১৮ মিনিটের সে ভাষনের সময় বঙ্গবন্ধুর মাথার উপর শত্রু দের হেলিকাপ্টার উড়ছিল। তার চারপাশে অশংখ্য সাদা পোষাকধারী পুলিশ ঘুরছিল। তারপরও সে যে সাবলীল ভাষায়, নিজস্ব ভঙ্গিমায় বঙ্গালী জাতির উদ্দেশ্যে যে ভাষণ দিয়েছিলেন তা ১৮৬৩ সালের ১৯ নভেম্বর পেনসালভেনিয়ার গেটিসবার্গে আব্রহাম লিংকনের বিখ্যাত ভাষণকেও হার মানিয়েছে।

তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের বঙ্গবন্ধুর অসহযোগ অন্দলনের কথা মনে করে বলেন, তৎকালীন সময়ে বঙ্গবন্ধুর এক নির্দেশে দেশের সকল সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়ে যে ভাবে অসহযোগ আন্দলন ঘটিয়েছিল তা গান্ধীজীর ১৯২০ সালের আগস্টের আন্দলনও হার মেনেছে।

তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এর ছাএদের অবদানের কথা উল্লেখ্য করে বলেন, সে সময় ৩০০ এর আধিক ছাএরা অংশগ্রহণ করেছিল মুক্তিযুদ্ধে। এদের মধ্যে ৫০ জন শহীদও হয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু যুদ্ধের পর বলেছিল, যুদ্ধে বিদ্ধস্ত দেশটিকে গড়তে হলে আমি (প্রকৌশলী) তোদের চাই।
তাই প্রকৌশলীদের যদি প্রয়োজনীয় সুজোগ সৃস্টি না করে দেওয়া হয়, তা হলে আমাদের দেশের বর্তমানের এই মধ্যম আয়ের অবস্থানকে ধরে রাখা যাবে না।

আইইবি’র সাবেক সভাপতি এবং রাজউক এর সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নুরুল হুদা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ সর্বক্ষেএে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনাই উন্নায়নের মূল হাতিয়ার।
তাই প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন করার মূল হাতিয়ার আমরাই। তাই আমাদের ঐক্যবদ্ধ্য হয়ে কাজ করতে হবে বলে সবাইকে আহ্বান করেন।

এতে আরও বক্তৃতা করেন, যথাক্রমে প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন, প্রকৌশলী খন্দকার মঞ্জুর মোর্শেদ, প্রকৌশলী মঞ্জুরুল হক, প্রকৌশলী আমিনুর রশীদ চৌধুরী মাসুদ, প্রকৌশলী মুজাম্মেল হক, প্রকৌশলী আতাউর মাহমুদ, প্রকৌশলী মামুনুর রশীদ, প্রকৌশলী বেলাল হোসেন, প্রকৌশলী এম এম সিদ্দিকসহ বিশেষ আতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইবি’র সম্মানী সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের “বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী মোঃ আব্দুস সবুর।

Leave a Reply

Facebook
ব্রেকিং নিউজ